বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন যারা

সিনেমার জন্য স্বীকৃতির শুরুটা হয় স্বাধীনতার পর, ‌১৯৭৫ সাল থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরাবরই ছিলেন সিনেমাবান্ধব একজন নেতা। তার হাত ধরেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের এফডিসি। তার আগ্রহেই চলচ্চিত্রের মানুষদের কাজের স্বীকৃতি দিতে চালু করা হয় ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রথা।

এখন পর্যন্ত এটিই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ও সর্বোচ্চ পুরস্কার। প্রতি বছরই শিল্পীরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। সেই সাথে ২০০৯ সালে থেকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রথা চালু করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ ডিসেম্বর প্রদান করা হলো ২০১৭ (৪২তম) ও ২০১৮ (৪৩তম) সালের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এবার কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার জিতেও সেটি গ্রহণ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। তার দাবি, তিনি ‘কমলা রকেট’ ছবিতে কোনো কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করেননি। তাই এই চরিত্রের জন্য তাকে সেরা কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার দেয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তাই ৮ ডিসেম্বর পুরস্কার গ্রহণ করতে যাননি। বিষয়টি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে চলচ্চিত্রপাড়ায়।

তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগে ঢাকাই সিনেমার সুপারস্টার শাবানাসহ আরও অনেকেই নানা কারণে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েও সেটি ফিরিয়ে দিয়েছেন। ১৯৭৭ সালে তখনকার সুপারহিট নায়িকা শাবানাকে ‘জননী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দাবি করেন তার চরিত্রটি পার্শ্ব চরিত্র নয়। তিনি সেই স্বীকৃতি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন।

এরপর ১৯৮২ সালে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার পান সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। কিন্তু তিনি সেটি গ্রহণ করেননি। ১৯৮৩ সালে সুবর্ণা মুস্তাফা শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন ‘নতুন বউ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। তিনিও শাবানার মতো পার্শ্ব চরিত্রে পুরস্কার ফিরিয়ে দেন।

১৯৯০ সালে মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফার দেখানো পথে হাঁটেন তার বাবা খ্যাতিমান অভিনেতা গোলাম মুস্তাফা। সে বছর ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার দেওয়া হলেছিল এই গুণী অভিনেতাকে। কিন্তু পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬-এর বিজয়ীদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশের পর দেখা যায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নিয়তি’ ছবির জন্য সেরা নৃত্য পরিচালক হিসেবে হাবিবের নাম উঠে আসে। হাবিব সে সময়ই দাবি করেন, এটা নাকি জালিয়াতি। ‘নিয়তি’ ছবিতে তিনি কাজই করেননি। তাই তিনি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

নকশী টিভি'র সকল অনুষ্ঠান সরাসরি দেখতে ক্লিক করুনঃ সরাসরি সম্প্রচার

ইউটিউবে নকশী টিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন নকশী টিভির ইউটিউব চ্যানেল

মন্তব্য যোগ করুন

Your email address will not be published.