সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মানববন্ধনের আহবান ইলিয়াস কাঞ্চনের

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন; শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর সবাই আমাকে বলছেন, ‘ভাই, আপনি কিছু বলেন।’ এই ২৫ বছরে মানববন্ধন আমি অনেক করেছি। তবে এসব করে কিছু হয় না। এটা অনেক পরে বুঝতে পেরেছি। এ জন্য আমরা কাজের ধরনও পরিবর্তন করেছি। শুধু কথা বলে, কিংবা র‍্যালি, অনুষ্ঠান করা হয় হয়তো, কিন্তু কেউ আসলে এভাবে বুঝতে চায় না। কিছু কিছু পরিবর্তন হয়তো হয়। শুক্রবার মানববন্ধনের জন্য যাঁরা আমাকে অনুরোধ করেছেন, দেখি তাঁরা আসেন কি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু বলা যায়। বড় বড় বুলি আওড়ায় অনেকে। আমি দেখব, তাঁরা কতজন আসেন এই মানববন্ধনে। সেদিন স্কুল বন্ধ। অফিস বন্ধ। খুব সকালেও আমরা মানববন্ধন করছি না। দেখি কতজন আসেন।

তিনি আর বলেন, এয়ারপোর্ট রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের এক ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর মানববন্ধন করা হয়। সেই মানববন্ধনে শুধু সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্টুডেন্টরাই ছিল। অন্য ডিপার্টমেন্টের কেউ আসেনি। আসলে যার যায়, সে বোঝে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর একই অবস্থা হয়েছিল।

স্কুলে গিয়ে গিয়ে শিশুদের আমরা সচেতন করছি রাস্তা পারাপার বিষয় নিয়ে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের সংগঠনের ১২৪টি শাখা আছে। ঢাকা ছাড়াও পুরো দেশে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্কুলে যাওয়া হচ্ছে। প্রাইমারি শিক্ষকদের বছরে বড় ট্রেনিং হয়। শিক্ষকরা ট্রেনিং নিতে আসেন। আমরা সেই সময় তাদের সড়ক দুর্ঘটনা সচেতনতামূলক ট্রেনিং করাই। কারণ সব স্কুলে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য কাজের ধরনে আমরা পরিবর্তন এনেছি। কারণ, এর আগে এসব নিয়ে সরকারকে বলেছি, মালিক ও চালককে বলেছি। বললে কিছু হয় না। আমি অনেক বলেছি। চালক ও মালিকের কাছে গিয়ে বুঝিয়েছি। আসলে কাউকে ক্ষেপিয়ে দিলে একটা কাজও হবে না। তাই এই পথ অবলম্বন করছি। শ্রমিকদের মতো রাস্তায় গিয়ে হরতাল করতে পারব না আমরা। তাই যেভাবে হোক, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হবে।

শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। সে বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন:

ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে আমি একমত পোষণ করছি। এক প্রতিষ্ঠান নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে আন্দোলন করতে হবে। একদিনের মানববন্ধন করে কিছু হয় না। আমি ২৫ বছর ধরে কাজ করছি। সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। একদিন কিংবা দুদিন করে লাভ নেই। এই ছাত্ররাই বেতনের মধ্যে ভ্যাট দূর করেছে আন্দোলন করে। ভর্তি ফি বাড়ার পরও আন্দোলন করেছে ছাত্ররা। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো ছাত্র মারা গেলে সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাই শুধু পথে নামে। কেন সব প্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে পথে কি নামা যেত না! সড়ক দুর্ঘটনা আমার হয়নি, হতে পারে, এই ভাবনা থেকে সবাইকে এক হতে হবে। আমি চাইব এই ভাবনা নিয়ে সবাই যেন আমাকে সাহায্য করে। আমার পাশে যেন দাঁড়ায়।

নকশী টিভি'র সকল অনুষ্ঠান সরাসরি দেখতে ক্লিক করুনঃ সরাসরি সম্প্রচার

 
ইউটিউবে নকশী টিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন নকশী টিভির ইউটিউব চ্যানেল

সর্বশেষ আপডেট সংবাদ

ফাইনাল ফিটিং | কমেডি নাটক

Free Hit Counter