মহানবী (সা.)-এর পবিত্র দেহের বরকত
22 Aug 2026, 08:30 PM
3
Views
উরওয়া ইবনু মাসউদ আস-সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনার সময় তিনি নবী (সা.)-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথা বলার সময় তিনি বারবার নবী (সা.)-এর দাড়ি মুবারকে হাত দিচ্ছিলেন।
তখন উরওয়ার ভাতিজা মুগিরা ইবনু শুবা (রা.) নবী (সা.)-এর কাছে তরবারি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। উরওয়া যখনই নবী (সা.)-এর দাড়ির দিকে হাত বাড়াতেন, মুগিরা (রা.) তরবারির খাপ বা ফলকের প্রান্ত দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত করে বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাড়ি থেকে তোমার হাত সরিয়ে নাও।
উরওয়া (রা.) সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি গভীর সম্মান, ভালোবাসা এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি তাদের পূর্ণ আনুগত্য প্রত্যক্ষ করলেন।
এরপর উরওয়া কুরাইশদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি কিসরা, কায়সার ও নাজাশির দরবারে গিয়েছি। কিন্তু কোনো রাজাকেই এমন দেখিনি, যাঁর সঙ্গীরা মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর সাহাবিরা যেভাবে সম্মান করেন, সেভাবে সম্মান করে। আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কফ ফেলতেন, তা তাঁদের কারো হাতে পড়ত; তখন তিনি তা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল ও শরীরে মেখে নিতেন। তিনি কোনো নির্দেশ দিলে তাঁরা তা পালন করার জন্য দ্রুত এগিয়ে যেতেন। তিনি যখন অজু করতেন, তখন তাঁর অজুর পানি নেওয়ার জন্য তাঁরা প্রায় পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেন। তাঁর সামনে কথা বলার সময় তাঁরা নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু রাখতেন এবং তাঁকে সম্মান করার কারণে তাঁর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাতেন না।
এরপর উরওয়া কুরাইশদের নবী (সা.)-এর সঙ্গে সন্ধি গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৩১)
তাঁের অজুর পানিতেও ছিল বরকত। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার কাছে এলেন, তখন আমি অসুস্থ ছিলাম এবং কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তিনি অজু করলেন। সাহাবিরা তাঁর অজুর পানি আমার ওপর ঢেলে দিলেন। এরপর আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৭৪৩)
মূল শিক্ষা: এই বর্ণনাগুলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র দেহ, তাঁর অজুর পানি এবং তাঁর ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বরকত এবং সাহাবায়ে কেরামের তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ দেখা যায়।