মহানবী (সা.)-এর চাচা ও ফুফুদের কথা
চাচাদের নাম হলো হামজা (রা.). আব্বাস (রা.), আবু তালিব, তঁার আসল নাম আবদে মানাফ, আবু লাহাব, তঁার আসল নাম আবদুল উজ্জা, জুবাইর, দিরার, মুকাওয়িম, মুগিরা, গাইদাক, তঁার নাম মুসআব ও হারিস। কেউ কেউ আবদুল কাবা-কেও তঁাদের মধ্যে উলে্লখ করেছেন; আবার কেউ বলেছেন, তিনি মূলত মুকাওয়িমেরই অন্য নাম। কেউ কেউ জাহল নামটিও উলে্লখ করেছেন; আরেক মতে তিনি মুগিরারই অন্য নাম। এছাড়াও কেউ কেউ কুসাম-এর নাম উলে্লখ করেছেন। তঁাদের মধ্যে শুধু দুজন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন হামজা ও আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। হামজা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হামজা (রা.) ছিলেন আল্লাহর সিংহ ও তঁার রাসুলের সিংহ এবং শহীদদের নেতা। তিনি নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন। তঁার ইসলাম গ্রহণ উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের তিন দিন আগে হয়েছিল। তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এরপর উহুদ যুদ্ধেও অংশ নেন এবং সেখানেই শাহাদাতবরণ করেন। ওয়াহশি দূর থেকে বর্শা নিক্ষেপ করে তঁাকে শহীদ করে। তঁার শাহাদাতের পর মুশরিকরা তঁার দেহের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তঁার মরদেহের কাছে দঁাড়িয়ে বলেন, Èতোমার মতো বিপদের সম্মুখীন আমি আর কখনো হইনি। এমন কোনো অবস্থানে আমি কখনো দঁাড়াইনি, যা আমার কাছে এর চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক।' (সিরাতে ইবনে হিশাম : ২/৯৬) হামজা (রা.) এবং তঁার বোনের ছেলে আবদুল্লাহ ইবন জাহশ (রা.)-কে একই কবরে দাফন করা হয়। আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আব্বাস (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে নবী (সা.)-এর পাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আকাবার বাইআতের সময় উপস্থিত ছিলেন। সে সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) আনসারদের কাছ থেকে বাইআত গ্রহণ করছিলেন এবং আব্বাস (রা.) সেখানে বক্তব্যও দিয়েছিলেন। বদর যুদ্ধের সময় তিনি বাধ্য হয়ে মুশরিকদের পক্ষের সৈন্যদলে বের হয়েছিলেন। মুসলমানরা তঁাকে বন্দি করেন। পরে তিনি নিজের মুক্তিপণ পরিশোধ করে মক্কায় ফিরে যান। মক্কা বিজয়ের আগে তিনি প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেন। জুহফা নামক স্থানে তঁার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাক্ষাত্ হয়। তিনি তঁার পরিবারের লোকদের মদিনায় পাঠিয়ে দেন এবং নিজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে থেকে মক্কা বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন। আব্বাস (রা.)-এর মাধ্যমে হিজরতের সমাপ্তি ঘটে; কারণ মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নেই। আব্বাস (রা.) উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে মদিনায় ইনে্তকাল করেন, উসমান (রা.) শহীদ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে। (সূত্র : সালেহ আহমাদ আশ-শামি, মিন মুঈনিস সিরাহ', পৃষ্ঠা ৬৬, ২৩৫ ও ২৩৯) মহানবী (সা.)-এর ফুফু ছিলেন যঁারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফু ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের কন্যা। তঁাদের মোট সংখ্যা ছিল ছয় জন। ১. সাফিয়্যা (রা.), তিনি জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)-এর মা, ২. আতিকা, ৩. বাররাহ, ৪. আরওয়া, ৫. উমাইমাহ ও ৬. বাইদা। তঁার উপনাম ছিল উম্মু হাকিম। আতিকা ও আরওয়া (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কি না এ বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে সাফিয়্যা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তিনি হিজরত করেছিলেন। খন্দকের যুদ্ধের দিন তিনি একজন ইহুদিকে হত্যা করেছিলেন। তিনি উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে ২০ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকিতে তঁাকে দাফন করা হয়।