সবাই নিষেধ করলেও বিপাশা বেছে নিয়েছিলেন প্রাপ্তবয়স্কদের ‘জিসম’
কিন্তু সবাই যখন পিছিয়ে যেতে বলছিলেন, বিপাশা তখন উল্টো সিদ্ধান্ত নিলেন। সম্প্রতি ‘এল’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা মনে করে অভিনেত্রী বলেছেন, তাঁকে বলা হয়েছিল, সামান্য যৌন আবেদন বা ‘ইরোটিকা’ থাকা কোনো সিনেমায় অভিনয় করলে তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। বিপাশার উত্তর ছিল সরল, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক, আর ‘জিসম’ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি একটি প্রেমের গল্প। চরিত্রটির নানা স্তর তাঁর ভালো লেগেছিল, তাই ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি।
২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিসম’ পরিচালনা করেছিলেন অমিত সাক্সেনা, চিত্রনাট্য লিখেছিলেন মহেশ ভাট। বিপাশার সঙ্গে সিনেমাটিতে জুটি বেঁধেছিলেন জন আব্রাহাম। গল্পের কেন্দ্র সোনিয়া; আবেগ, আকর্ষণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার জটিলতায় আটকে থাকা একজন নারী। প্রচলিত অর্থে তিনি আদর্শ নায়িকা নন। তাঁর মধ্যে আছে প্রলোভন, হিসাবি বুদ্ধি, দুর্বলতা ও অন্ধকার দিক। সেই সময় হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের অধিকাংশ চরিত্রই ছিল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ; নায়কের প্রেমিকা, স্ত্রী কিংবা নৈতিকতার প্রতীক।
বিপাশার সোনিয়া সেই কাঠামোয় ফাটল ধরিয়েছিল। চরিত্রটি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক। দর্শক তাঁকে শুধু নায়িকা হিসেবে দেখেননি; গল্পের চালিকা শক্তি হিসেবেও দেখেছেন। বিপাশা পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘জিসম’ করার সময় তিনি প্রচলিত ‘হিন্দি সিনেমার নায়িকা’ তাই তাঁর ম্যানেজার পর্যন্ত মনে করেছিলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া পাগলামি। ভয়কে পাত্তা না দেওয়ার ফল বিপাশার সেই ঝুঁকির ফল শেষ পর্যন্ত তাঁর পক্ষেই যায়। ‘জিসম’ বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, সিনেমাটির নান্দনিকতা ও বিপাশার পর্দার উপস্থিতিও আলোচনায় আসে। অভিনেত্রীর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি মুক্তির পর তাঁর চরিত্রের চেহারা ও সাজসজ্জা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছিল। চুলে টং ব্যবহার, ব্রোঞ্জ মেকআপ, গাঢ় কাজল, সাদা পোশাক এবং সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য; সব মিলিয়ে ‘জিসম’-এর ভিজ্যুয়াল স্টাইল তখনকার তরুণীদের মধ্যে ট্রেন্ড তৈরি করে।