হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পারে এই যোগাসন
যোগাসনও শরীরচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন যোগাসন শরীরের নমনীয়তা বাড়ানো, পেশি সক্রিয় রাখা এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে একটি হল অর্ধ ধনুরাসন। তবে এই আসনকে হৃদ্রোগ, কোলেস্টেরল বা রক্ত জমাট বাঁধার চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। নিয়মিত ব্যায়ামের অংশ হিসেবে এটি করা যেতে পারে।
কী ভাবে করবেন অর্ধ ধনুরাসন?
প্রথমে একটি ম্যাটের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুটি পা সোজা থাকবে এবং শরীরকে যতটা সম্ভব আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন।
এর পর ডান হাঁটু ভাঁজ করে ডান পায়ের পাতা পিঠের দিকে নিয়ে আসুন। ডান হাত পিছনে নিয়ে ডান গোড়ালি ধরার চেষ্টা করুন। গোড়ালি ধরতে অসুবিধা হলে যতটা সম্ভব কাছে হাত নিয়ে আসুন।
এ বার ধীরে ধীরে ডান পা ও ডান হাত সামান্য ওপরের দিকে তুলুন। একই সঙ্গে বুকের অংশও সামনের দিকে প্রসারিত করার চেষ্টা করুন। শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে নিতে প্রায় ২০–৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকার চেষ্টা করুন। তার পর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে অন্য পা দিয়েও একই ভাবে আসনটি করুন।
কী কী উপকার হতে পারে?
নিয়মিত যোগাসন শরীরের নমনীয়তা ও পেশির সক্রিয়তা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। অর্ধ ধনুরাসনে বুক ও শরীরের সামনের অংশ প্রসারিত হয়। ফলে শরীরের ভঙ্গি ও নমনীয়তা উন্নত করতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
তবে শুধু অর্ধ ধনুরাসন করলেই হৃদ্রোগ, রক্ত জমাট বাঁধা, কোলেস্টেরল বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর হবে—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ধূমপান এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
কারা এই আসন করবেন না?
উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা বা মাইগ্রেনের মতো সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় অর্ধ ধনুরাসন শুরু না করাই ভালো। বিশেষ করে কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে প্রশিক্ষিত যোগশিক্ষক বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আসন করার সময় ব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে আসনটি বন্ধ করুন। হৃদ্রোগের ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত যোগাসন শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।