মুখের দুর্গন্ধের নেপথ্যে পেটের যে সমস্যা, জানলে চমকে যাবেন!
অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা, মাড়ির সমস্যা কিংবা দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকার কারণেই মুখে দুর্গন্ধ হয়। তাই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে মাউথওয়াশ, মিন্ট কিংবা বারবার ব্রাশ করার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কিন্তু এসবের পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায়, তাহলে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলী বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গেও মুখের দুর্গন্ধের সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। মুখ ও পাকস্থলী একই পরিপাকনালির অংশ হওয়ায় একটির সমস্যার প্রভাব অন্যটির ওপর পড়তে পারে। তবে মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে শুধু পেটের সমস্যাকে দায়ী করা ঠিক নয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়—
১. গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ: এটি পেটের সমস্যার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ। পাকস্থলীতে অ্যাসিড বা খাবার হজমের জন্য তৈরি হওয়া পাচক রস যখন খাদ্যনালি দিয়ে ওপরের দিকে উঠে মুখের কাছাকাছি চলে আসে, তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়। এই টক ও দুর্গন্ধযুক্ত অ্যাসিড এবং অর্ধপাচিত খাবার মুখে তীব্র পচা বা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।
২. হজমে গোলযোগ ও কোষ্ঠকাঠিন্য: খাবার ঠিকমতো হজম না হলে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পাকস্থলীতে খাবার জমে পচতে শুরু করে। এই পচন প্রক্রিয়ার ফলে পেটে তৈরি হওয়া গ্যাস ও টক্সিন রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায় কিংবা খাদ্যনালি দিয়ে মুখে এসে মারাত্মক বাজে গন্ধ ছড়ায়।
৩. পেটে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও আলসার: পাকস্থলীতে 'হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি' নামক এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে পেটে আলসার বা ঘা তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া পেটে এক ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস নির্গত করে, যা আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মুখে চলে আসে।
৪. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা: অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের কারণে পরিপাকতন্ত্রে স্বাভাবিক এনজাইমের অভাব ঘটে। ফলে খাবার প্রাকৃতিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাসে রূপান্তরিত হয় এবং মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
চলুন জানা যাক, পেটের কারণে হওয়া মুখের দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায়—
১. মুখে দুর্গন্ধ হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। পানি পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতিকর টক্সিন ধুয়ে ফেলে এবং পাকস্থলীর অ্যাসিডকে পাতলা রাখে।
২. ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। কারণ ফাইবারযুক্ত খাবার আপনার পেট পরিষ্কার রাখে এবং মুখের দুর্গন্ধের উৎস বন্ধ করে। ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন—
শাকসবজি, ইসবগুলের ভুসি ও তাজা ফল খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ দূর হয়।
৩. অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তেলে ভাজা খাবার বর্জন করা উচিত। কারণ ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল-মসলার খাবার অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়িয়ে দেয়। তাই এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
৪. খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যাওয়া ঠিক নয়। রাতে কিংবা দুপুরে খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাওয়া উচিত। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে গেলে পেটের অ্যাসিড খাদ্যনালি দিয়ে মুখে চলে আসে।